মাতাল বিএসএফ সন্ত্রাসীদের গুলিতে মা-শিশু হত্যার পাওনা: শুধুই ক্ষমা

২৪ নভে, ২০০৮ ·

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া সীমান্তে গত রোববার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী−বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশের গ্রামে ঢুকে নির্বিচার গুলি করে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছেন। নিহতদের দুজন মা ও শিশু। ঘুমিয়ে থাকার সময় ঘরে ঢুকে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের গুলি করে মারেন। তাঁদের এলোপাতাড়ি গুলিতে কমপক্ষে ১৫ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। বিনা কারণে এই হামলা চালানোর সময় বিএসএফের এক সদস্য গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিডিআর ও পুলিশ সুত্র জানায়, মাঝিপাড়া সীমান্তের ৪৩৫ নম্বর মেইন পিলার থেকে ৪৩৬ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে রোববার রাত ১০টার দিকে ভারতের নয়াবাড়ী বিএসএফ ক্যাম্পের দু-তিনজন সশস্ত্র সদস্য কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশের ময়নাকুড়ি গ্রামে ঢোকেন। তাঁরা কোনো কারণ ছাড়াই গ্রামের লোকজনদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করেন। তাঁদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মোস্তফা।

এরপর বিএসএফ সদস্যরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঢুকে ঘুমন্ত লোকজনের ওপর গুলি চালান। একপর্যায়ে আর পি সিং নামের এক বিএসএফ সদস্য ময়নাকুড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ঘুমন্ত স্ত্রী মজিদা বেগমের (২৫) শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। মজিদা জেগে উঠে চৌকির নিচে লুকালে বিএসএফ সদস্য তাঁকে সেখানেই গুলি করে হত্যা করেন। এরপর চৌকির ওপর ঘুমিয়ে থাকা মজিদার এক বছরের ছেলে মামুনকেও বিএসএফ সদস্য গুলি করে মারেন। মজিদার স্বামী শহিদুল বাধা দিতে এলে ওই সদস্য তাঁর হাতে ও নাভির নিচে গুলি করেন।

অতর্কিত গুলির শব্দে লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করলে বিএসএফ সদস্য আর পি সিং সরে পড়ার চেষ্টা করেন। যাওয়ার সময় রাস্তায় হামিদুল ও হানিফ নামের দুই ভাইকে গুলি করতে উদ্যত হন। দুই ভাই মিলে তাঁকে আটকে ফেলেন এবং পরে গ্রামবাসী পিটুনি দিয়ে আর পি সিংকে বিডিআরের কাছে সোপর্দ করেন।

শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, নিহত মোস্তফার ছেলে শাকিল হোসেন, গুলিবিদ্ধ শহিদুলের ভাই সুজাত আলীসহ অনেকে প্রথম আলোকে জানান, রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিএসএফ গ্রামে ঢুকে এই তান্ডব চালায়। তাঁরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিডিআর ক্যাম্পে একাধিকবার খবর দেওয়ার পরও তারা যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। তারা সময়মতো এলে হতাহতের ঘটনা ঘটত না।

বেঁচে যাওয়া জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ গ্রামে ঢুকে প্রথমে আমাকে গুলি করে। আমি মোস্তফার বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে ছিলাম। গুলি করার আগেই আমি পুকুরে ঝাঁপ দিই এবং কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকি। পরে শুনি, ওই গুলি মোস্তফার গায়ে লেগেছে।’ মোস্তফার ছেলে শাকিল হোসেন (২০) বলেন, বিএসএফের গুলিতে বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান।

গুলিতে আরেক আহত আব্দুল করিম (৫৫) বলেন, ‘রাতে খাওয়ার পর ঘুমাতে যাই। এমন সময় বিএসএফ ঘরে ঢুকে গুলি করে। আমারসহ অনেকের বাড়ির টিন ফুটো হয়ে গেছে।’ শহিদুলের ভাই সুজাত আলী বলেন, মজিদা ও তাঁর বাচ্চাকে বিএসএফ কয়েক রাউন্ড গুলি করে।
বিএসএফের অতর্কিত আক্রমণে ময়নাকুড়ি ও কুমারটোল গ্রামের আতঙ্কিত লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে গরু-বাছুর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় মহাসড়ক-সংলগ্ন কালান্দীগঞ্জ হাইস্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়। বিকেলে পতাকা বৈঠকের পর তারা বাড়িঘরে ফেরে।

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় মাঝিপাড়া সীমান্তে ৪৩৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ময়নাকুড়ি গ্রামে বিডিআর-বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে গতকাল দুপুরে পতাকা বৈঠক বসে। বৈঠকে বিডিআরের পক্ষে রংপুর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল আফতাবুল ইসলাম এবং বিএসএফের পক্ষে কিষাণগঞ্জ সেক্টরের ডিআইজি ড. আর চন্দ্রমোহন নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে ড. আর চন্দ্রমোহন বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আটক বিএসএফ সদস্যকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে বিডিআর একমত হয়েছে। । নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় ডিআইজি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। তবে কী কারণে বিএসএফ এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি বলতে পারেননি।


এতই নতজানু আমাদের আইন আর পররাষ্ট্রনীতি...গুলি করে খুন করার পরও আমাদের ধৃত ওই পশুকে ফেরত দিতে হবে????

এই ব্লগে..

বাংলাদেশ: মানুষ, প্রেম, স্বাধীনতা, রাজনীতি, দারিদ্রতা আর সম্ভাবনার দেশ। সে দেশের কিছু বিষয়...মনের গভীরে আকি-বুকি কাটা ঘটনা আর অবসরের হাবিজাবি নিয়ে আমার এই ব্লগ।

যেকোন বিষয় নিয়ে মেইল করতে পারেন: bdidol@জিমেইল.কম

সাম্প্রতিক পোষ্ট

সামহ্যোয়ার ব্লগ পোষ্ট