women লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
women লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

The old tale of harassment in bus

২৮ মে, ২০০৯ · 0 মন্তব্য(গুলি)

In present competitive world women has to work hard to survive beside man. Many times they have to come out in early morning and return late night. Most women travel by bus to school, college, university, office.

Men and women travel together on bus. But they have to constantly bear with wrong and injustice. And whoever revolts has to face harassment and, who just keeps mouth shut and bear there is no girl like her. It’s hard to get a bus during office time due to crowd. The bus comes filled from wherever it starts. That’s why passengers of next stoppages have to ride standing even within crowd. Sometimes a young man will give his seat away to an elderly woman. But this scene is really rare nowadays.

According to Bangladesh Road Transport Authority (BRTC) law, 9 seats in big buses and 6 in small buses are reserved for women, children and disabled. Including this reserved sits women can sit in other seats as well. If any man is sitting on reserved seats then he has to give it away as soon as a woman gets on bus. But this rule is not followed.

Sometimes men and women are seen arguing about reserved seats. A young girl was describing her experience like this - "so one day through the heavy crowd I somehow got up on a bus from Farmgate. An old women and a private university teacher were also standing with me. Men were sitting in all 9 reserve seats. One of them got up immediately after that woman asked to and other two said we paid fair. But that apu is adamant, they have to get up. At one stage a severe argument took place about this. Even few old women sitting at the back were saying, see, as a woman how she is arguing with men. I requested apu not to talk. She told me, this happens because you do not retaliate. At last one guy let go of the sit after reaching Banani from Farmgate. That apu sat and asked me to sit."

Another day; few students of Titumir College got up from Mohakhali on Ekushey Transportation and see there are no seats. When all of them asked men to let go of reserved seats, many men replied simultaneously ‘why?’ Girls pointed their attention and told ‘see it is written there, reserved sits.’ They said satirically ‘Oh, it’s reserved for disabled, are you disabled?’

Someone else said ‘Women are disabled and imbalanced, they wan to depend on men and live’ At this stage bus helper came and said ‘get up and let them sit.’ Then they actually got up.

But there are quite opposite pictures as well. Even if there are men sitting on reserved seats they let go when they see women. In our neighboring country India every bus has equally reserved seats for both men and women. If either men or women are more in number they will ride standing. But as this is the rule in our country women gets to be harassed constantly while traveling by bus. Who knows when this era of harassment will end in Bangladesh.

মরণনেশায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা

২৫ নভে, ২০০৮ · 0 মন্তব্য(গুলি)

দেশে মাদকাসক্ত নারীর সংখ্যা আশগ্ধকাজনকহারে বাড়ছে। এমনকি বিভিল্পম্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরাও এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দেশে প্রায় ৫০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। এদের ৯১ শতাংশই কিশোর ও তরুণ। এছাড়া দেড় লাখ কিশোরী-নারীও বিভিল্পম্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। মাদক নিরসনে উদ্যোগী সরকারি ও বেসরকারি বিভিল্পম্ন সংস্ট্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মাদকাসক্তদের সঙ্গে আলাপ করে এবং নিজস্ট্ব অনুসল্পব্দানে নারী মাদকাসক্তদের সমঙ্র্কে তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগল্পম্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, বদরুল্পেম্নসা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিসহ বিভিল্পম্ন উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার ছাত্রী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।
মাদক নিয়ন্পণ অধিদফতরের সামঙ্্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মাদকাসক্ত ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে এক লাখের বেশি বসবাস করছেন ঢাকায়। এদের মধ্যে শতকরা প্রায় ১০ জন অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজারই হচ্ছে কিশোরী, তরুণী ও মহিলা। মাদকাসক্ত নারীর দুই-তৃতীয়াংশই স্ট্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এক্ষেত্রে ইংরেজি মিডিয়াম স্ট্কুল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। যৌনকর্মীদের একটি বড় অংশও মাদকাসক্ত। কিছু গৃহবধহৃও রয়েছেন মাদকাসক্ত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কৌতূহল, পারিবারিক অশানস্নি, প্রেমে ব্যর্থতা, বল্পব্দুদের কু-প্ররোচনা, অসৎ সঙ্গ, হতাশা, আকাশ সংস্ট্কৃতির প্রভাবসহ নানাবিধ কারণে মেয়েরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বিভিল্পম্ন সামাজিক প্রতিবল্পব্দকতার কারণে মাদকাসক্তদের মাত্র ৫ শতাংশ চিকিৎসা নিতে আসে।

ইউনিসেফের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের শতকরা ১৫ ভাগ নারী ধহৃমপান করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর স্ট্বাস্ট্থ্য ও জনমিতিক জরিপে দেখা যায়, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের শতকরা এক ভাগ ধহৃমপানে আসক্ত। জাতিসংঘের এক জরিপে দেখা যায়, দেশের অনস্নত ৬৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে মাদকাসক্তির শিকার। তাদের মধ্যে ৮৭ ভাগ পুরুষ এবং ১৩ ভাগ নারী।

এছাড়া মাদকবিরোধী সংগঠন 'লাইফ' সমঙ্্রতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোসদ্বেলে থাকা ৪৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর ওপর এক জরিপ চালায়। এদের বয়স ১৫ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৩০। দেখা গেছে, হোসদ্বেলে থাকা এসব ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগই বিভিল্পম্নরকম মাদকে আসক্ত। সিগারেটে আসক্তদের মধ্যে শতকরা ৫৫ জন ছাত্র এবং প্রায় ৮ ভাগ ছাত্রী। অ্যালকোহলে আসক্ত প্রায় ১৪ ভাগ ছাত্র এবং ৪ ভাগ ছাত্রী। ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও বিভিল্পম্নরকম ঘুমের ট্যাবলেটে আসক্ত প্রায় ২ ভাগ ছাত্রী। চরস ও ভাং দিয়ে নেশা করে প্রায় ১২ ভাগ ছাত্রী। তবে রাজধানীতে তরুণী ও যুবা নারীদের হেরোইন গ্রহণের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় সায়েদাবাদ সিটি পল্ক্নী, মোহাম্মদপুর বস্টিস্ন, মিরপুর পল্ক্নবীর বস্টিস্নতে। তথ্যানুসল্পব্দানে দেখা যায়, শুধু সায়েদাবাদ সিটি পল্ক্নীতে ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসেই নারী হেরোইনসেবী পাওয়া গেছে ৬৩ জন। এদের অধিকাংশেরই বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্ট্বাস্ট্থ্য ইনসদ্বিটিউটের অধ্যাপক বিশিষদ্ব মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল বলেন, একজন মানুষের জন্য বিশেষ করে টিনএজ বা কৈশোর বয়স খুবই একটি 'রিস্টি্ক পিরিয়ড'। উঠতি বয়সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণেও অনেক সময় মেয়েদের মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায়। আর মেয়েরা তুলনামহৃলকভাবে ছেলেদের চেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ ও নরম মনের হয় বলে তাদের মানসিক প্রতিত্রিক্রয়াও হয় দ্রুত।

এদিকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র নিউ মুক্তি ক্লিনিকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের শতকরা ৯০ ভাগই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্টম্নাতক ও স্টম্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী। বিশেষজ্ঞ ও মাদকাসক্ত কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা সাধারণত ফেনসিডিল, হেরোইন, ইনজেকশন, গাঁজা, চরস, ভাং ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিল্পম্নরকম ট্যাবলেট গ্রহণ করে থাকে। তবে অধিকাংশ মেয়েই ফেনসিডিলকে পছন্দের তালিকায় এক নল্ফ্বরে রেখেছে। আলাপ করে জানা গেছে, ফেনসিডিলের সহজলভ্যতা এবং ব্যবহারের সুবিধাই এর মহৃল কারণ। এছাড়া শহরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ধনী এলাকায় ইয়াবাসহ অন্যান্য দামি নেশাজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতা মাদকাসক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে চিহিক্রত করেছেন মাদকাসক্তরাই। অন্যদিকে ঢাকা শহরের কয়েকটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও নেশাজাতদ্রব্য বিত্রিক্রর সঙ্ট ঘুরে স্ট্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া ছাত্রীদের মাদকদ্রব্য গ্রহণের আশগ্ধকাজনক চিত্র পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী বলেছেন, ফেনসিডিলের স্ট্বাদ মিষদ্বি। তাছাড়া খাওয়ার পর মুখে কোনোরকম গল্পব্দ থাকে না। আর হাতে পেতেও সুবিধা। তুলনামহৃলকভাবে দাম কম। এরপর রয়েছে বিভিল্পম্ন ট্যাবলেটের অবস্ট্থান। তবে ইয়াবা তুলনামহৃলকভাবে অনেক বেশি দাম হওয়ার কারণে ধনী ও বিত্তবান পরিবারের মেয়েরাই তা গ্রহণ করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরাই ইয়াবা বেশি খাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল বলেন, বর্তমানে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া মেয়েরা বেশি মাদকে আসক্ত হচ্ছেন। জীবনকে উপভোগ করতে গিয়ে বল্পব্দুদের পাল্ক্নায় পড়ে তারা পা রাখছেন এই অল্পব্দকার জগতে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অভিজাত এলাকার ইংরেজি মিডিয়াম স্ট্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

সমকালের সঙ্গে আলাপকালে মাদকাসক্তদের কেউ কেউ বলেছেন, নিছক শখের বশে 'টেসদ্ব' করতে গিয়ে ত্রক্রমেই বিভিল্পম্ন নেশার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন তারা। অধিকাংশ মেয়েই বলেছেন, তারা এই মাদকদ্রব্য পান ছেলে বল্পব্দুদের কাছ থেকে। তাছাড়া ইদানীং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেকেই মাদক কেনেন। তারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্দ্বর, মুহসীন হলের গেট, মধুর ক্যান্টিন এলাকা, টিএসসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সামনের রাস্টস্নায় সল্পব্দ্যার পর থেকে বিভিল্পম্নরকম মাদক কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়া রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পেছনে চন্দনের খুপরি দোকান, বিএনপি বস্টিস্ন, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, পিলখানা গণকটুলি, তেজগাঁও রেল বস্টিস্ন-বাজার, এফডিসি গেট, খিলগাঁও রেল গেট, টিটিপাড়া, কমলাপুর রেলসদ্বেশনের পেছনের রাস্টস্না, শ্যামলী মেথর পট্টি, মিরপুর সদ্বেডিয়াম ও মাজার এলাকা, মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা, ঢাকা কমার্স কলেজের সামনে, মিরপুর ১১ নং বিহারী পট্টি এবং পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার, বাবুবাজার, আলুবাজারের লোহার মার্কেটের পেছনেসহ বেশ কয়েকটি সঙ্টে মাদক কিনতে পাওয়া যায় বলে জানান তারা।

নেশাগ্রস্টস্ন কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে তারা কখনো কখনো চা-পান বিত্রেক্রতা ও টোকাইদের কাছ থেকে নেশাদ্রব্য কেনেন। প্রতি বোতল ভেজাল ফেনসিডিল বা ডাইলের দাম বর্তমানে ২০০ থেকে ২৮০ টাকা। আসল ফেনসিডিল প্রায়ই পাওয়া যায় না বলে জানান ছাত্রীরা। পেলেও দাম নেয় প্রায় হাজার টাকা। ভেজাল হেরোইন প্রতি পুরিয়া ৫০ থেকে ৮০ টাকা। মিক্সড গাঁজা ৫-১০ টাকা প্রতি সদ্বিক। ইয়াবা ট্যাবলেট প্রতিটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। পাগল পশু শানস্ন করতে ব্যবহূত টিটিজেসি ইনজেকশন প্রতিটি ২০-৩০ টাকা এবং প্যাথেডিন ইনজেকশন ২০০-৩০০ টাকা। অবশ্য কোনটা কতটুকু আসল সে সমঙ্র্কে ত্রেক্রতা-বিত্রেক্রতা কেউই গ্যারান্টি দিতে পারে না বলে জানান তারা।

নিউ মুক্তি ক্লিনিকের প্রধান নির্বাহী মোঃ সানাউল হক বলেন, আজকাল মাদকেও ভেজাল হচ্ছে। এমনিতেই যে কোনো মাদকের পাশর্্বপ্রতিত্রিক্রয়া অত্যনস্ন ভয়গ্ধকর, তার ওপর এসব ভেজাল মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে আসক্তরা আরো ভয়গ্ধকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ওই ক্লিনিকে কথা হয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ইন্দিরার (৩০) (ছদ্মনাম) সঙ্গে। চৌদ্দ বছর ধরে নানারকম মাদক সেবন করছেন তিনি। মাদকের কারণে দু'বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন। প্রথমদিকে দীর্ঘদিন প্যাথেডিন নিয়েছেন। শরীরে তার এখন আর কোনো শিরা খুঁজে পাওয়া যায় না বলে বর্তমানে হেরোইন ও ইয়াবা খাচ্ছেন ইন্দিরা। বারিধারার এক বিত্তবান পরিবারের একমাত্র সনস্নান ইন্দিরা জানান, ১৯৯৫ সালে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আমেরিকায় স্ট্থায়ী হয়ে গেলে মায়ের দুঃখ দেখে মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম ফেনসিডিল খেতে শুরু করেন। তার ভাষ্য মতে, তারপর একদিন এক বল্পব্দু জানাল প্যাথেডিন নিলে দুনিয়া ভুলে থাকা যায়। তারপর থেকে একটানা ৪ বছর প্যাথেডিন নিয়েছেন। তিনি জানান, এক সময় প্রতিদিন তিনবেলা তাকে ৩০টি প্যাথেডিন নিতে হতো। প্রতিদিন খরচ হতো ১৫ হাজার টাকা। ১৬ বছরে মাদকের পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া বিভিল্পম্ন সময় ২ শ' ভরি স্ট্বর্ণালগ্ধকার বল্পব্দক দিয়েছেন মাদক কেনার জন্য। এখন প্রতি মাসে মাদকের পেছনে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকার ওপরে। ইন্দিরা বলেন, অনেক চেষদ্বা করেছি, ছাড়তে পারিনি। এক শ'বারেরও বেশি চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু তারপর আবারো মাদক নিয়েছি। একটি মাদকাসক্ত সনস্নান যে কীভাবে একটি পরিবারকে শেষ করে দেয় তার জ্বলনস্ন উদাহরণ আমি। তিনি জানান, তারা প্রায় ১৪/১৫ জন বল্পব্দু মিলে একসঙ্গে মাদক নেন। এর মধ্যে ৮ জনই মেয়ে। এদের সবাই রাজধানীর উচ্চবিত্ত পরিবারের সনস্নান। তাদের মধ্যে ৪ জন দেশের স্ট্বনামধন্য শিল্কপ্পপতির মেয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একজন ছাত্রী জানান, আড্ডার আসরে মজা করতে গিয়ে প্রথম গাঁজা খান। তারপর কখন যে আসক্ত হয়ে পড়েন বুঝতে পারেননি। এখন নিয়মিত হেরোইন আর ইয়াবা ট্যাবলেটও খান। প্রায় দুই বছর ধরে খাচ্ছেন। এই অভ্যাস ছাড়তে চান কিন্তু পারছেন না। শরীরও খারাপ হয়ে গেছে।

রাজধানীর একটি নিরাময় কেন্দ্রে কথা হয় এইচএসসি পড়ূয়া সীমির (ছদ্মনাম) সঙ্গে। সে বলে, বাবা-মার সঙ্গে ঝগড়া করে আমি প্রথম ফেনসিডিল খাই। এক বল্পব্দু আমাকে ফেনসিডিল এনে দেয়। তারপর থেকে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। শেষ পর্যনস্ন বল্পব্দুরাই আমাকে সরবরাহ করে। কিন্তু এখন আর খেতে চাই না। আমি সুস্ট্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক বিশৃগ্ধখলা, নৈতিকতাহানি, আকাশ সংস্ট্কৃতির প্রভাব এবং পারিবারিক ও বিভিল্পম্ন হতাশার কারণে এই প্রজন্মের মেয়েরা বেশি মাদকাসক্ত হচ্ছে। হেরোইন ও ইয়াবার মতো ক্ষতিকর ও ভয়াবহ মাদকের সহজপ্রাপ্যতা এজন্য দায়ী। আগে হাসপাতালের আউটডোরে মাদকাসক্ত রোগী হাতে গোনা দু'চারজন পাওয়া যেত। আর বর্তমানে রোগীর সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগের বেশি। এরা ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন কিংবা অন্যান্য মাদকে আসক্ত।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন সদ্বাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞানী মাহমুদা ইসলাম বলেন, সাধারণত দেখা যায় কম বয়সের কারণে একে অন্যের কথায় বেশি প্রভাবিত হয়। আর আবেগ বেশি থাকার কারণে সহজেই যে কোনো বিষয়ে ভেঙে পড়ে। ফলে একটি নেতিবাচক পরিস্টি্থতিতে পড়লে তা থেকে নিজেকে আড়াল করতে গিয়ে অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। পারিবারিক অশানস্নি, বাবা-মার নেতিবাচক সমঙ্র্ক বা ব্রোকেন পরিবারের কারণেও অনেকে এ পথে চলে যায়। তবে গৃহিণী মেয়েদের মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে অনেক সময় দেখা যায় স্ট্বামীরা তাদের স্ট্পীদের মাদকাসক্ত করছে।

ডা. মোহিত কামাল জানান, মাদকাসক্ত মেয়েদের বিকলাঙ্গ সনস্নান জন্ম দেওয়ার আশগ্ধকা খুব বেশি। আসক্ত মেয়েরা পাইলসসহ নানারকম রোগে আত্রক্রানস্ন হতে পারে। তাদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য অস্ট্বাভাবিক হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে মাদক সরাসরি মস্টিস্নষ্ফ্কে হামলা চালায়। অধিকাংশ নারী এক সময় যৌনত্রিক্রয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কেউবা মা পর্যনস্ন হতে পারে না। কোনো মেয়ে যদি গর্ভাবস্ট্থায় মাদক সেবন করে তাহলে তার সনস্নানেরও মাদকাসক্ত হওয়ার আশগ্ধকা থাকে।

তিনি আরো জানান, ফেনসিডিল বা হেরোইন নিয়মিত খেলে পরিপাকতন্প নষদ্ব হয়ে যায়। শরীরের রাসায়নিক ত্রিক্রয়া বাধাগ্রস্টস্ন হয়। মানসিক সুস্ট্থতা হারিয়ে যায়। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকাসক্ত ব্যক্তি পাগলও হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে সিগারেট মাদকাসক্ত হওয়ার প্রধান কারণ। পরে এক ডোজ দুই ডোজ করে অন্য কোনো নেশা যোগ হয়। ত্রক্রমেই ডোজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর নেশারুদের অবস্ট্থাও খারাপ হতে থাকে। ত্দ্বক, ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ শরীরের অভ্যনস্নরীণ অর্গানগুলো আস্টেস্ন আস্টেস্ন নষদ্ব হয়ে যায়। তিনি জানান, মাদকাসক্তদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। এদের বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে ১৫ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরী এমনকি শিশুরাও আজকাল মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গড় বয়স মাত্র ২০ বছর।

ঋণের বেড়াজালে তৃণমূল নারী : তাহাদের দুঃখগাথা

· 0 মন্তব্য(গুলি)

বিশ্বব্যাপী যখন ৰুদ্র ঋণ প্রকল্পকে মডেল হিসেবে নেয়া হচ্ছে তখন বাংলাদেশে ৰুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে অনেকে নিজের উন্নয়ন তো দূরের কথা সহায়-সম্বল হারিয়ে পথের ভিখারি পর্যনত্দ হচ্ছেন। অনেকে কিসত্দির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে এনজিও কর্মীদের ধিক্কার ও হুমকির কারণে আত্মহত্যা করছেন। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। অধিকাংশ এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো শুধু তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের ৰুদ্র ঋণ প্রদান করে। যেসব নারীদের ঋণ প্রদান করা হয় তাদের আগে থেকে আয় বর্ধকমূলক কাজের ওপর কোনো প্রশিৰণ থাকে না। এনজিও কর্মীরা তো তাদের টার্গেট পূরণ করতে পারলেই বেতন পাবেন। তাই তারা যাচাই ছাড়া যাকে তাকে ঋণ প্রদান করে থাকেন।

অধিকাংশ ঋণ গ্রহীতা নারীরা ঋণ নিয়ে তাদের স্বামীর হাতে তুলে দেন। দেখা গেছে স্বামী কোনো ৰুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে টাকা ইচ্ছানুযায়ী খরচ করে ফেলেন। ফলে কিসত্দির দায় এসে পড়ে নারীর ঘাড়ে। কিসত্দির টাকা না দিতে পারলে নারীকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা দেয় এনজিও কর্মীরা। এমনও দেখা গেছে অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী আত্মহত্যা করেন। অনেকে পরিবার আবার কিসত্দির টাকা পরিশোধ করতে বসতভিটা পর্যনত্দ বিক্রি করেন। অথচ এনজিওগুলোর ঋণ নীতিমালায় রয়েছে এক এনজিওর সদস্য অন্য এনজিওর সদস্য হতে পারবে না। কিন্তু এনজিও কর্মীরা তাদের ঊধর্্বতন কতর্ৃপৰের চোখে ধুলো দিয়ে নিজের চাকরি টিকানোর জন্য সেই নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করেন।
মোসা. মুনা বিবি (৩৭) একজন গৃহিণী। স্বামী বর্গাচাষি। দুই মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে সংসার। পরের জমি চাষাবাদ করে মোটামুটি সংসার চলত। গ্রামীণ ব্যাংক কার্যক্রম শুরম্ন করার পর প্রথমে ঋণ নেয়। কিন্তু এক সময় ব্যাঙের ছাতার মতো এলাকায় গড়ে ওঠে বিভিন্ন এনজিও। ওসব এনজিও কর্মীরা ঋণ প্রদানের লৰ্যে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। মুনা বিবি প্রায় ৭টি এনজিও থেকে ৰুদ্র ঋণ নেন। স্বামীর একমাত্র সম্বল দুটি হালের গরম্ন। হঠাৎ একটি হালের গরম্ন মারা যায়। এতে স্বামীও বেকার হয়ে যায়। কারণ হাল কিনে বর্গা চাষ করে কোনো লাভ হয় না। জোতদারেরা সব ফসল নিয়ে যায়। তাদের এখন প্রায় দেড় লাখ টাকা দেনা হয়েছে।
এমেলি বেগম (৩৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যনত্দ অঞ্চলে স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী দিনমজুর। এক সময় এমেলি বেগম অন্যান্য নারীদের মতো প্রথমে গ্রামীণ ব্যাংক পরে আশা, প্রশিকা, ব্র্যাকসহ কয়েকটি স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নেন। এতে স্বাবলম্বী হওয়া তো দূরের কথা ঋণের দায়ে শেষ পর্যনত্দ যুব উন্নয়ন অধিদফতর কতর্ৃক দায়ের করা মামলায় জেলহাজতে যেতে হয়। তিনি জানান, এনজিওগুলো শুধু ঋণ দিয়ে কিসত্দি আদায়ের জন্য আসে। কিন্তু ঋণের টাকা নিয়ে কী করা যায় এই বিষয়ে কেউ পরামর্শ দেয় না। ঋণ নিয়ে এখন ফেঁসে গেছি। জানি না কবে দেনামুক্ত হতে পারব।
সুখী বেগমের (৪৫) তিন মেয়ে ও চার ছেলে নিয়ে সংসার। স্বামী একজন ৰুদ্র ব্যবসায়ী। গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, প্রশিকা, ঠেঙ্গামারা সবুজ সংঘসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তিনি স্বামীকে ব্যবসা করতে দেন। ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান হলে ভিটামাটি পর্যনত্দ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এক সময় ঋণের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার লৰ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদের বিয়ে দিয়ে যৌতুকের টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হন। তিনি জানান, ঋণ প্রদানের সময় গ্রম্নপ তৈরির জন্য এনজিও কর্মীরা বাড়িতে ধরনা দেয়। কিসত্দি আদায়ের সময় অমানবিক আচরণও করে। তবে মাঠকর্মীদের কোনো দোষ নেই। কারণ তারা চাকরি বাঁচাতে এই অশোভন ব্যবহার করে থাকে।
ৰুদ্র ঋণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের স্বাবলম্বী তথা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার নাম করে অনেক এনজিও ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংক কতর্ৃক নিয়ম-কানুনকে অমান্য করলেও তাদের বিরম্নদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অধিকাংশ স্থানীয় এনজিও প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন পর্যনত্দ নেই। সুদের হারও অনেক বেশি। প্রতিটি এনজিওদের নীতিমালায় উলেস্নখ রয়েছে, একজন নারী একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের সদস্য হলে অন্য এনজিওতে তাকে সদস্য হিসেবে নেয়া যাবে না। কিন্তু মাঠকর্মীদের ম্যানেজাররা অন্য এনজিওদের সদস্যদেরও সদস্য করার টার্গেট দেন। এতে মাঠকর্মীরা চাকরি বাঁচানোর জন্য নিয়মনীতি অমান্য করেন। এতে যে নারীর ঋণ প্রয়োজন নেই তাকেও ঋণ নিতে আগ্রহী দেখায়। এ ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের নারীরা অশিৰিত ও অদৰ। নেই কোনো প্রশিৰণ, নেই ব্যবসার মতো উপযুক্ত পরিবেশ। জানে না কী কাজে ব্যবহার করতে হবে ঋণের টাকা। শেষ পর্যনত্দ ঋণের সব দায় এসে পড়ে নারীর ওপর। এভাবে অনেকের সংসারও ভাঙে।


মাঠকর্মীদের বক্তব্য


শফিকুল আলম (ছদ্মনাম) রম্নরাল রি-কন্সট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরএমএফ) নামক একটি এনজিওতে কর্মরত। এই মাঠকর্মী বলেন, কিসত্দির টাকা আদায় করতে খুবই কষ্ট হয়। বৃষ্টি-বাদলের সময় ঋণ গ্রহীতারা কিসত্দি দিতে পারে না। অফিসের বসদের চাপের কারণে আমরা অভদ্রোচিত আচরণ করতে বাধ্য হই। কিসত্দি আদায় করতে না পারলে বেতন থেকে কেটে নেয়। অনেক সময় সদস্যরা মোবাইল, টিভি, কাঁথাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পর্যনত্দ পানির দরে বিক্রি করেন।


ব্র্যাক ও বাইস নামের এনজিওতে কর্মরত সাবেক এক মাঠকর্মী ফারম্নক জানান, ব্র্যাকে কাজ করতে গিয়ে মানুষের ঘরের টিন বিক্রি করে কিসত্দি আদায় করেছি। বাইস এনজিওতেও একই সমস্যা। ফলে রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে মুদি দোকান দিয়েছি। যাদের কোনো গতি নেই তারা ৰুদ্র ঋণ প্রকল্পে চাকরি করে।

এই ব্লগে..

বাংলাদেশ: মানুষ, প্রেম, স্বাধীনতা, রাজনীতি, দারিদ্রতা আর সম্ভাবনার দেশ। সে দেশের কিছু বিষয়...মনের গভীরে আকি-বুকি কাটা ঘটনা আর অবসরের হাবিজাবি নিয়ে আমার এই ব্লগ।

যেকোন বিষয় নিয়ে মেইল করতে পারেন: bdidol@জিমেইল.কম

সাম্প্রতিক পোষ্ট

সামহ্যোয়ার ব্লগ পোষ্ট