প্রথমেই অভিনন্দন আওয়ামীলীগকে এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে। এ ধরনের বিজয় বাংলাদেশ এক বার মাত্র দেখতে পেরেছিল এর আগে। দেশের মানুষের পালস অনুভব, তত্বাবধায়ক সরকারের ভাল কাজের উচ্চসিত প্রশংসা, সময়ভিত্তিক মেনিফেস্টো ও সাবলীল কথা তাকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। এবছর শেখ হাসিনা এটা পেরেছেন। খালেদা জিয়া পারেননি। তিনি ভুল সময়ে ভুল স্লোগান দিয়েছেন। দেশ বাচাও মানুষ বাচাও স্লোগানে মানুষ উদ্দীপ্ত হবে দেশের মানুষ যখন বুঝবে সে মরতে বসেছে। মানুষ সেটা মনে করেনি। মানূষ ভেবেছে এই তো আর কয়দিন তার পর এ সরকার গেল বলে। বিএনপি কাকে নমিনেশন দিল আর কাকে দিলনা সে বেপারে কিছু বলব না।
আওয়ামীলীগের দাবী মানুষ সন্ত্রাস আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপিকে প্রতাখ্যান করেছে। বিএনপি’র দুর্নীতিতে মানুষ যেমন হতবিহবল হয়ে পড়েছিল তেমনি আওয়ামীলীগের সততার কথাও কোথাও শোনা যাবেনা। তাহলে কোন ম্যাজিক এই ফল এনে দিল? দেশের সাধারন মানুষ যেমন খালেদা জিয়ার সাধারণ কথা বোঝেনা, তেমনি কোন ম্যাজিকাল বিষয়ও বোঝেনা। বিদেশী পর্যবেক্ষকরা বলেছেন নির্বাচন সঠিক হয়েছে, আমারাও জিকির তুললাম ইয়েছ সঠিক হয়েছে। দেশীয় এত পর্যবেক্ষন প্রতিষ্ঠান আছে ওথচ কারো কথাই যেন আমাদের বিশ্বাস হয়না। সাদারা যা বলে তাই ঠিক। ২০০১ এ শেখ হাসিনার একটা কথার পুনরাবৃতি করি। তিনি বলেছিলেন ‘বিদেশী পর্যবেক্ষকরা ভেতরের ষড়যন্ত্র বুঝবে কী করে’। বাংলাদেশের পলিটিক্যাল জটিলতা দেশের মানুষই বোঝেনা আর ভিন্ন ভাষাভাষী দু দিন এর এরা? আসলেইতো তাই। তারা শুধু ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াটাই দেখেন, কোন প্লট থাকলে তাতো দেখতে বা বুঝতে পারার কথা নয়। প্লটের কথা কেন বললাম? স্বরাস্ট্র উপদেস্টার কথাই ধরি। উনি বললেন, ‘মানুষ দুর্নীতির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে’। এর মানে মানুষ সততার পক্ষে ভোট দিয়েছে। আওয়ামীলীগের আমল কী সততার আমল তা কে না জানে? তাহলে তিনি কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাদাবাজির মামলা করালেন, আওয়ামীলীগের এত নেতাকে দুর্নীতির জন্য জেলে ঢোকালেন?
তিনি যখন একথা বলেন এর মানে হচ্ছে, সরাসরি একটা নির্দিস্ট দলের বিপক্ষে কথা বলা এবং তার বিপক্ষে কাজ করা। আর তার প্রমান তারাতো দিয়েছেন আগেই দল ভাংগার কাজ হাতে নিয়ে। নির্বাচন কমিশন হাতে তালি বাজাতে বাজাতে বললেন ‘হ্যা হাফিজের গ্রুপই আসল বিএনপি’। খালেদা জিয়া বিএনপি’র কেউ না। আমাদের সর্বোচ্চ ভরসার স্থল বিচার বিভাগও তাই বলে দিলেন। একটা প্রতিষ্ঠিত দলকে টুকরা বানানোর পরে ‘ক্ষমা চাই’ বললেই মাফ পেতে পারেন না সিইসি।
দুদকের কথা ধরা যাক। দেশসুদ্ধি করতে দুর্নীতিমুক্ত করার গুরু দ্বায়িত্ব নিয়ে তাদের মাথা জলা করে ফেলছেন। সবাই আমরা তাদের প্রশংসা করে চলেছি। ইলেকশনের কয়েক দিন আগে মাত্র কোকোর টাকার সন্ধান দেয়ার মত গুরু দ্বায়িত্ব দেশবাসীকে জানানো হল। বিএনপি’র লোকেরাও চেচামেচি শুরু করল এই বলে যে ইলেকশনে প্রভাব ফেলার জন্য দুদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এইগুলো প্রচার করছে। এর মধ্যে যে একটা গহীন ঈঙ্গিত ছিল বিএনপি’র নেতাদের মাথায়ও ঢুকেনাই। মনে হয় জেল থেকে বের হওয়ার পর মাথা তখনও কাজ করা শুরু করে নাই। বিএনপি ক্ষমতায় আসবেনা এটা নিশ্চিত না হয়ে এই কাজ দুদক কোন দিন করতে যাবেনা। নির্ভিক তা প্রমানের জন্য পর পর দুইবার প্রেস কনফারেন্স করল। তাদের মোরালিটি সম্পর্কেতো আমরা জানি। নেতাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজির কেসগুলো বাদীরা যখন তুরতুর করে উইথড্র করে নেয় তখনই বোঝা যায়।
কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেতাদের জেলে ঢোকানে শুরু হল। রিমান্ডে চমকপ্রদ তথ্য আসতে থাকল। প্রায় শতভাগ মানুষও সরকারকে সাপোর্ট দিতে থাকল। এদের আবার নতজানু নীতি পরিগ্রহন ও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে সমর্থনের পারদ নামতে থাকে। নামতে থাকলেও নেমে নেমে মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল। যারা সাপোর্ট করেনি তারা কিন্তু এই ক্ষণিক সরকারের শত্রু হয়ে যায়নি। জাস্ট সমর্থন উঠিয়ে নিয়েছে। দলীয় সিল এদের গায়ে নাই।
জোট নেত্রী দাড়ালেন এই সরকারের বিরুদ্ধে। নিজের সমর্থনে জোড়ালো কোন কথা শোনা যায়নি, আওয়ামীলীগের ১৯৯৬-২০০০ শাষন আমলের কথাত আমরা জানি, সেই আমল-এর কথা না বলে এই সরকারের বিরুদ্ধে লেগে গেলেন। মানুষ হতাশ হয়েছে এই ভেবে যে দলের নেতাদের গ্রেফতার করায় এই সরকার খালেদা জিয়ার কাছে ভাল না। জেলে যাওয়ার আগে এবং জেলে বসে তিনি দৃঢ়তা দেখিয়ে যে ভাবমুর্তি অর্জন করেছিলেন তা খুইয়েছেন ইলেকশন ক্যাম্পেইন করে। ফলশ্রুতিতে এই সরকার হয়ে পড়ল ভীত। জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে এ সরকারের কেউ রেহাই পাবেনা এটা তারা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। আর ইলেকশন কমিশনতো তাদের পাপের কথা ভুলে যায়নি।
কেউ কি বিপদ ডেকে আনে? কেউ না।
ড. ফখরুদ্দীন আহমেদকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলেন বিএনপি’র ফলাফল প্রত্যাখান করার বিষয়ে। তিনি নির্বাচন কমিশনের উপর দ্বায় চাপিয়ে যেভাবে স্থান ত্যাগ করলেন তাতে তিনি সকলের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে গেলেন। তাকে এভাবে জবাব দিতে আর কখনো দেখা যায়নি। সৎ মানুষ বলেই হয়তো প্রশ্নবোধক চিহ্নটা রেখে গেলেন। কারন, কে না জানে ২৬৩ টি সিট পাওয়ার মত স্বর্গীয় কোন কাজ যেমন আওয়মীলীগও করেনি আর ৩২টা সিট পাওয়ার মত গোনাহ বিএনপিও করেনি।
আর একটা কথা এই বিজয় যদি দুর্নীতি ও নেপোটিজম এর বিরুদ্ধে হয় তাহলে সংস্কারবাদী, তথাকথিত ‘সৎ প্রার্থীরা’ কেন নির্লজ্জভাবে হেরে আসবেন?
শেখ হাসিনাকে আবার অভিনন্দন। পোস্ট ইলেকশন প্রেস কনফারেন্সে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন, দারিদ্র্যকে বিদায় দেবেন, বিরোধীদের সংগে নেবেন তিনি এই যে আশার আলো জ্বেলেছেন আমাদের মাঝে, সেই আলো যেন নিভে না যায়।
ই-মেলা থেকে সংকলিত
নির্বাচন ২০০৮: একটা সাদামাটা মূল্যায়ন
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কি কি করবে?
আমরা একটা টু ডু লিস্ট করতে পারি। কি কি করবে বলে ঘোষনা দিয়েছে এবং করতে পারে বলে আমরা আশা করি।
১. গত ২ বছরের সব কাজের ইনডেমনিটি
২. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
৩. এরশাদকে সাময়িক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন
৪. দ্রব্য মূল্যের দাম একেবারে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা
৫. তেলের দাম কমানো
৬. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্হা
৭. ধর্ম ভিত্তিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষনা
৮. আব্দুল জলিল, আবু সাঈদ, মান্না, জাহাঙ্গীর, সাবের, চার খলিফা সহ অন্যান্য বিদ্রোহীদের মৃদু শাস্তির ব্যবস্হা
৯. নিজ দল এবং বিএনপি, জামাত সহ অন্যান্য দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্হান এবং আইনানুগ ব্যবস্হা
১০. বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া টাকা দেশে ফেরত আনা
১১. ট্রানজিট এবং বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের সাথে চুক্তি করা
১২. তেল, গ্যাস এবং কয়লা নিয়ে বন্ধ হয়ে থাকা কার্যক্রমকে চালু করা
১৩. জয় এর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগমন
১৪. বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় বাস্তবায়ন, ২১ আগষ্ট সহ অন্যান্য বোমা হামলার বিচার সম্পন্ন করা
১৫. জঙ্গীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু (রাফা)
১৬. ভারত এবং মায়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমানা বিরোধের অবসান (রাফা)
১৭. তারেক জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা বেসরকারী খাতে ভাগবাটোয়ারার ব্যবস্থা করা (অমি পিয়াল)
১৮. বিটিভি-র স্বায়ত্বশাসন করবে (ক্রাউন)
১৯. ..
আপনারাও যোগ করুন।
বাংলাদেশ । বিশ্বে আমরা কি পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই?
মিরাজুর রহমান
প্রবাসে আছি প্রায় ৩ বছর । কর্মসূত্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সাথে কথাবার্তা বলার সুযোগ হয় । শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের বাংলাদেশ বিষয়ক সংবাদের ই-মেইল এ্যালার্ট এর সাবস্ক্রাইবার হওয়ার সুবাদে বিশ্বে যে কোন প্রান্তে বাংলাদেশ নিয়ে কোন সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সাথে সাথে পড়ার চেষ্টা করি । বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের সাধারণ ধারণা এইসব সংবাদ থেকে মোটামুটি বোঝা যায় । আর এইসব সংবাদের উপর ভিত্তি করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মাঝে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ব্যাপারে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়।বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রধান পরিচয়গুলি হলো -
১। হতদরিদ্র দেশ যেটি প্রতি বছর বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয় ।
২। মধ্যপন্থী উদার মুসলিম দেশ যেখানে উগ্র মৌলবাদীরা তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে ।
৩। বিশ্বের সবচেয়ে দূর্ণীতিপরায়ণ দেশগুলির একটি ।
৪। রাজনৈতিক সহিংসতায় পরিপূর্ণ একটি দেশ যেখানে গণতন্ত্র অত্যন্ত ভঙ্গুর । আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল ।
৫। ব্যবসা বানিজ্যের প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং অবকাঠামোবিহীন একটি দেশ যেখানে লালফিতার দৌরাত্ব অনেক বেশী ।
এ বাইরে কিছু পজেটিভ পরিচয়ের মধ্যে আসে
১। সাধারণভাবে শান্তিকামী জনগণ যারা খুব অল্পতেই সন্তষ্ট এবং সুখী । (সূত্র : বিবিসি জরিপ)
২। ক্রিকেটপাগল একটি দেশ যারা এই একটি মাত্র খেলায় বিশ্বমানের কাছাকাছি পৌছাতে পেরেছে।
প্রথম ৫টি পরিচয় (২য়টির আংশিক মধ্যপন্থী উদার মুসলিম দেশ ব্যতীত) কোন স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন জাতির জন্য সুখকর হতে পারেনা । কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে এই পরিচয়গুলিকে প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছি । আমাদের অসৎ ও অকর্মণ্য শাসকগোষ্ঠী (উর্দিধারী এবং উর্দিবিহীন) এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলেও তাদের প্রতি আমাদের অন্ধ রাজনৈতিক সমর্থনকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই ।
দেশের কৃষক সমাজ, নিম্নআয়ের মানুষরা এবং পরিশ্রমী মিডল ক্লাস বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা যতই পাল্টানোর চেষ্টা করুকনা কেন এই সার্বিক ভাবমূর্তির কারণে বাংলাদেশ সামনে আগাতে পারছেনা । এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিলো তারা দ্রুত গতিতে সামনে আগাতে থাকলেও আমরা দিন দিন আরো পিছিয়ে পড়ছি । আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন সকলক্ষেত্রেই এই নেগেটিভ ভাবমূর্তির জন্য চড়া মুল্য দিতে হচ্ছে । আমাদের প্রতিবেশী দেশের নেগেটিভ প্রচারণাকে অনেকে আমাদের ভাবমূর্তি সংকটের জন্য আংশিকভাবে দায়ী করেন । কিন্তু প্রতিবেশীর কর্মকান্ডের সমালোচনা করার চাইতে নিজেদের সংকট মোকাবেলার জন্য নিজেদের প্রচেষ্টা অনেক বেশী কার্যকর হবে ।
জাত্যাভিমানের কারণে এর অনেক কিছুই আমরা স্বীকার করতে চাইনা । কিন্তু উটপাখীর মত বালিতে মুখ গুজে থাকলেই সমস্যার সমাধান হয়না । এর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হয় ।
দেশে এবং বিদেশে অনেক বাংলাদেশী আছেন যারা মেধা এবং কর্মদক্ষতার জোরে বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকদের পিছনে ফেলে সম্মানজনক অবস্থানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন । এর সাথে সাথে তারা বাংলাদেশকেও প্রতিষ্ঠিত করছেন । কিন্তু সার্বিকভাবে তাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পরিবর্তনে খুব কমই ভূমিকা রাখতে পারছে ।
তাহলে সমাধান কি? নাকি আমরা এসব ভাবমূর্তিকে তোয়াক্কা করিনা । দেশ গোল্লায় যাক, তাতে আমার কি? আমার নেতা নেত্রী ক্ষমতায় থাকলেই হলো বা আমার হালুয়া রুটির বন্দোবস্ত হলেই হলো । একটি দেশের শিক্ষিত সমাজের মধ্যে দেশ নিয়ে এইরকম সাধারণ উদাসীনতা আসলেই পীড়াদায়ক।
১/১১ পরিবর্তনের পরে প্রথম প্রথম অনেকেই ভেবেছিলেন এবার মনে হয় একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে । কিন্তু প্রচন্ডভাবে আশাবাদীদেরও মোহভঙ্গ হতে বেশী সময় লাগেনি । দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গুণগত কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেটা বলাটা কষ্টকর তবে সাধারণ মানুষের জীবনধারণ যে আগের চেয়ে কঠিনতর হয়েছে সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ।
সামনের বছরগুলিতে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাবে । আমরা কি আদৌ এর জন্য কোন প্রস্ততি নিচ্ছি? নাকি বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি সংকটকে যেমন আমরা সহজেই উপেক্ষা করি, গায়ে মাখিনা, সেরকম করে সামনের পরিস্থিতির ব্যাপারেও একই দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করি? যদি আমরা সেরকমই মনে করি তাহলে এর জন্য অনেক বেশী চড়া মুল্য দিতে হতে পারে আমাদেরকে। নীরব নয়, সরব দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়াও বিচিত্র হবেনা ।
আর শেষ পর্যন্ত যদি সেরকম অবস্থার মধ্যে আমাদের পড়তেই হয় তাহলে আমাদের নেগেটিভ ভাবমূর্তি আরো প্রকট হবে, আরো পেছাতে থাকবো আমরা ।
পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন । কিন্তু কোন পথে আসবে সেই পরিবর্তন? আমাদের সচেতনভাবে ঠিক করতে হবে বিশ্বে আমরা নিজেদেরকে কি পরিচয়ে পরিচিত করতে চাই!! দেশের তরুণসমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে এই পরিবর্তন ঘটানোর জন্য। এমন নয় যে সামনে উদাহরণ নেই । দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ার দেশগুলির উদাহরণতো হাতের কাছেই আছে । এমনকি প্রতিবেশী শ্রীলংকা প্রবল জাতিগত সংঘাতের মধ্যেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে । উদ্যোগী হলে আমরাও নিশ্চয়ই পারবো ।
সবার প্রথমে আমাদের তরুণ সমাজকে বুঝতে হবে যে এই পরিবর্তনটি প্রয়োজন । প্রায় সময়ই হতাশ হয়ে যাই কারণ পরিস্থিতির আশু পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা দেখিনা । তারপরও আশায় বুক বাধি, বারংবার হতাশ হবার জন্য।
(Writer:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক)
চেন্জ উই বিলিভ: আমাদের দেশের রাজনীতিতেও আসছে ভিডিও কনফারেন্স
ওবামার ডেমোক্রেটিক কনভেনশনে বেডরুম থেকে ভিডিও কনফারেন্স দেখে যারা ভাবতেন..আমাদের দেশে কবে হবে?? সুখবর হলো সেটা আজই হবার কথা ছিল।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যার পর শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্স করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
বিকেলে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের তথ্য সচিব বলেছিলেন, "ভিডিও কনফারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুধা সদনের ফটকের সামনে একটি ৪২ ইঞ্চি এলসিডি মনিটর ও ওয়েবক্যাম বসানো হয়েছে। শেখ হাসিনা বাড়ির ভেতর থেকে এবং কর্মী-সমর্থকরা বাইরে থেকে এতে অংশ নেবেন। মনিটরের একটি অংশে শেখ হাসিনাকে এবং অন্য অংশে কর্মীদের দেখা যাবে। সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় এই কনফারেন্স হবে। নিরাপত্তার খাতিরে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলা সভানেত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্যই ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সবার সঙ্গেই কথা বলতে পারবেন।"
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এক দফা পরীক্ষামূলক কনফারেন্সও করেন শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি বাড়ির বাইরে থাকা দলীয় কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
কিন্তু মহাজোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের কারণে ভিডিও কনফারেন্সটি হয়নি। পরে সেটি আর আয়োজন করা হবে কিনা তা জানা যায়নি।
আমরা আশা করছি কালকেই বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই ঐতিহাসিক ঘটনা চাক্ষুস করবো।
বিডিনিউজ থেকে সংকলিত
প্রতিবাদের খরচ দৈনিক মাত্র ১ লক্ষ টাকা
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিক্ষোভ প্রতিদিনই বাড়ছে। নতুন নতুন বিক্ষোভকারীর সমাগম ঘটছে সুধা সদনের সামনে। একেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর পক্ষে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীর আগমন ঘটছে। জনপ্রতি গড়ে ২০০ টাকা হারে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছে।
এখানে দুই ধরনের বিক্ষোভকারী আছে: ক্যাজুয়াল এবং স্হায়ী।
১. ক্যাজুয়াল: এরা ঘণ্টাপ্রতি অর্থ গ্রহণ করে বিভিন্ন মনোনয়নবঞ্চিতের পক্ষে বিক্ষোভ করে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ এই ক্যাটাগরীর এবং এরা কেউই সংশ্লিষ্ট এলাকার নয়।
২. স্থায়ী: এরা নির্দিষ্ট ভাতার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে এসেছে।
এসব বিক্ষোভকারীর যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের কারণে সুধা সদনের চারপাশের প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। মিছিল-স্লোগান ও ব্যাপক জনসমাগমের কারণে এলাকাবাসীকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের জন্য ওই এলাকায় বৈকালিক ভ্রমণকারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তবে এ এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো চলছে। চা, সিগারেট, বিস্কিট বিক্রেতাদের জমজমাট ব্যবসা চলছে।
যায়যায়দিন থেকে সংকলিত
রাষ্ট্রদূতঃ যোগ্যতা, তৈলমর্দন না পিঠ বাচানোর জন্য?
প্রধান উপদেষ্টার তথ্য সচিব সৈয়দ ফাহিম মুনয়েমকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের জন্য তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে, বিডিনিউজ কিছুক্ষণ আগে দিল এ খবর। বৃহস্পতিবার সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
তার কি যোগ্যতা আছে রাষ্ট্রপতি হবার?
এর আগে গেল জেনাঃ মাসুদ, ইয়াসমিন মুর্শেদ। এরশাদ-জিয়ার আমলেও অনেক বির্তকিত লোকদের এভাবে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়েছিল।
শেখ হাসিনাঃ আপনার অপেক্ষাতেই গোটা জাতি
চিকিৎসা শেষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশ ফিরছেন, ঠিক এর আগেই পীর হাবিব তাকে উদ্দেশ করে লিখলেন। পীর হাবিব তার সর্বশেষ লেখায় আবারো আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে আক্রমণ করেছেন। দীর্ঘ লেখায় তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে কিছু 'নসিহত'ও করেছেন। এসব একান্তই তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা। যে কেউ তার নিজস্ব মতামত রাখতেই পারে। কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আমার মধ্যে কিছু প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই এই লেখার অবতারণা।
পশ্চিমবাংলার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিদায় নেয়ার সময় তার কমরেডদের উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ঐ ভাষণে তিনি বলেছিলেন, 'আপনাদের পৰে-বিপৰে নেতারা কী বলেছে তা নিজ কানে শুনুন। অন্যের কাছ থেকে আপনার সমালোচনা কিংবা প্রশংসা কোনোটাই বিশ্বাস করবেন না।' পীর তার লেখায় বলেছেন, তিনি শুনেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার উপর ৰুব্ধ। এটা শুনেছেন কাদের কাছে যারা আড়ালে তাকে বাহ্বা দেয়। এর মানে ঐ লোকগুলো মন্দ লোক। তাদের কথাতেই এক দীর্ঘ লেখা লিখে ফেললেন পীর?
ওয়ান ইলেভেনের পর শুধু পীর হাবিব কেন, অনেক রথি-মহারথিরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বিরুদ্ধে লিখেছেন। স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল একটি মহল '৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই গণমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে আসছে। মিথ্যা, অসত্য রিপোর্ট, প্রতিবেদন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যত হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে, কোনো জাতীয় নেতার বিরুদ্ধে তা হয়নি। '৯১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর দেশের অনেক বরেণ্য বুদ্ধিজীবী শেখ হাসিনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এতটুকু কার্পণ্য করেনি। '৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর তারা অনেকেই নেত্রীর কাছে গেছেন, তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। শেখ হাসিনা তাদের সামান্য ভর্ৎসনা করেছেন এমন রেকর্ড নেই। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই পীর হাবিবও তার ভুল বুঝতে পারবেন। কারণ, আমি তার লেখার পরিবর্তন লৰ্য করছি। বহু লোক বঙ্গবন্ধু কন্যাকে নানাভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আবার ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনা তাদের প্রতি কখনো ৰোভ বা প্রতিহিংসা দেখাননি। বঙ্গবন্ধুর রক্তে ৰোভ, প্রতিহিংসা নেই। তা থাকলে, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় '৭৫-এর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার প্রচলিত আইনে হতো না। শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি করলে ফারুক রশীদের ক্রসফায়ার হতো। শেখ হাসিনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর বিরল গুণগুলোর একটি বেশি তীব্র, তা হলো ৰমা। আর পীর আপনি কেন, গত ৩৩ বছর একশ্রেণীর গণমাধ্যম দ্বারা শেখ হাসিনা যে পরিমাণ অপসাংবাদিকতার শিকার হয়েছেন তাতে যদি প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, তাহলে তিনি রাজনীতি করতে পারতেন না।
পীর হাবিবের লেখার সমস্যা হলো, তিনি সবকিছু খণ্ডিতভাবে দেখেন। যার ফলে যেকোনো জিনিসের একটি অবিকৃত চিত্র ও তথ্য তার লেখায় অনুপস্থিত থাকে। মোহিত লাল মজুমদার কেবল রবীন্দ্র সমালোচক ছিলেন না একজন রবীন্দ্র ভক্তও ছিলেন। মোহিত লাল রবি ঠাকুরের প্রশংসা করে যত কথা লিখেছেন, তেমন শক্তিশালীভাবে আর কজন লিখেছেন?
আপনি আবার দুই নেত্রীর ব্যর্থতার কথা বলছেন। ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, 'একজন রাজনৈতিক নেতা সফল না ব্যর্থ সে সিদ্ধান্ত দেবে জনগণ, নাগরিকগণ। একজন নেতাকে যদি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে তাহলে তিনি ব্যর্থ আর জনগণ যদি তাকে সমর্থন করে তাহলে তিনি সফল।' আসুন এই তত্ত্বের উপর দাঁড়িয়ে দেখি বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল না ব্যর্থ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ '৯১-এর নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারেনি, কিন্তু ভোট পেয়েছিল বিএনপির চেয়ে বেশি। '৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির কথা বলা হলেও বাস্তবে '৯৬-এর চেয়ে তিন শতাংশ বেশি ভোট পায় দলটি (৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ)। তাই জনসমর্থনের মাপকাঠিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সফলতম নেতা। প্রতিটি নির্বাচনে তার এবং তার দলের সমর্থন বেড়েছে।
পীর হাবিব তার লেখার দ্বিতীয় অংশে নাম ধরে কিছু ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন, নাম ধরে কাউকে সমালোচনা করেছেন। আমি তাদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার ব্যক্তিগত বিতর্কে যাব না। ক্লিনটন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন তখন, তার কিছু কিছু নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। ল্যারি কিং লাইভে এসে ক্লিনটন, এই সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন এভাবে, 'দেখুন দলটা আমার, আমি তাদের নিয়েই দল গড়েছি যাদের সঙ্গে কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি যখন দল চালাব তখন আমার মতোই লোক বাছাই করতে দিন। আপনারা দিনের শেষে দেখুন দলটা ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা।' তাই দোহাই লাগে, কে ভালো কে খারাপ, কে আপনার পছন্দের, কে আপনার বিপৰের সেই বিতর্ক আনবেন না। আপনার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-আনন্দ জাতীয় নেতার উপর চাপানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনা যার সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন তাকে নিয়েই কাজ করতে দিন। তিনি যেখানে আছেন, তার থেকে আমার আপনার দূরত্ব যোজন যোজন। তাই আপনার ভাবনার সঙ্গে তার ভাবনা না মিললেই তিনি ব্যর্থ একরম অর্থহীন-যুক্তিহীন কথা না বলাই ভালো। দেখতে হবে, আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকারগুলো পূরণ করছে কিনা, নীতি আদর্শে অটল আছে কিনা। পীর আপনার লেখাতেই আপনি ব্যক্তি বন্দনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, আবার আপনিই কয়েকজনকে 'সার্টিফিকেট' দিচ্ছেন, তাদের বন্দনা করছেন। এটা কি স্ববিরোধী হলো না?
আপনি বলছেন তৃণমূলের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা, আপনিই আবার নাম বলে দিচ্ছেন কাকে কাকে মনোনয়ন দিতে হবে। কী আশ্চর্য কথা! শুধু সাংসদ নয়, মন্ত্রিসভায় কাদের নেয়া উচিত আপনি সে পরামর্শও দিয়েছেন। বা! কী অদ্ভুত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সরকার কে চালাবেন আপনি না শেখ হাসিনা? ম্যানচেস্টার ইউনিয়ন শুধু ইংল্যান্ডে নয়, সারা বিশ্বে ফুটবলের জনপ্রিয় ক্লাব। এই ক্লাবের কোচ স্যার আলেক্স ফাগুন, কবছর আগে তাদের দামি তারকা ডেভিড বেকহ্যামকে বাদ দেন। শুধু ইংল্যান্ড নয়, বিশ্বব্যাপী এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়, বেকহ্যাম ভক্তরা ৰোভে ফেটে পড়ে। ফাগুন বলেন, 'দল ১১ জন গোলরৰক দিয়ে যেমন চালানো যায় না, তেমনি ১১ জন স্টার (তারকা) দিয়েও চালানো যায় না।' পীর হাবিব মন্ত্রিসভাটাও এরকম। আপনি নিশ্চয়ই মানবেন যিনি প্রধানমন্ত্রীর হট সিটে বসেন তাকে অনেক কিছু একসঙ্গে মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়। তাকে কার্যকর এবং উপযোগী একটা টিম বানাতে হয়।
আপনার আমার চেয়ে শেখ হাসিনা অনেক প্রাজ্ঞ, বিচক্ষণ। তার নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত। তাই এসব মাইনর ডিটেইলে না গিয়ে আসুন না আমরা প্রত্যাশা করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সেকুল্যার বাংলাদেশ। যে দেশে দারিদ্র্য, সন্ত্রাস থাকবে না, দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন বঞ্চিত হবে না দেশের মানুষ। আসুন না আমরা সবাই মিলে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করে এই বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শেষ ভাষণে বলেছিলেন 'ক্ষুধা দারিদ্র্য মুক্ত, সন্ত্রাস দুর্নীতিমুক্ত একটি গর্বিত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে।' আসুন না আমরা সবাই মিলে সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের জন্য কাজ করি। পীর অনেক তো সমালোচনা হলো, একবার বলুন না, শেখ হাসিনা একমাত্র আপনিই পারেন এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। কারণ আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। একবার বলুন না, বঙ্গবন্ধুর রক্ত আপনার ধমনিতে তাই, আজ জাতির এই ক্রান্তিকালে আপনার অপেক্ষাতেই গোটা জাতি।
সৈয়দ বোরহান কবীর
নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত
আর্কাইভ
আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন করবে?
আগামী নির্বাচনে কে জিতবে?
সাম্প্রতিক মন্তব্য
পোষ্ট ট্যাগ
- 1971 (1)
- 2008 (1)
- Abused (1)
- ads (3)
- AL (2)
- alo (1)
- article (1)
- bangla (2)
- bangladesh (14)
- bdr (1)
- bengali (1)
- bill (1)
- biography (1)
- block (1)
- blog (3)
- book (2)
- bsf (1)
- computer (1)
- crime (1)
- diary (2)
- drugs (1)
- e-book (2)
- e-prothom (1)
- economics (2)
- education (1)
- election (5)
- entertainment (2)
- fun (6)
- gates (1)
- generation (1)
- girls (1)
- Harassment (1)
- hasina (1)
- ielts (1)
- internet (4)
- iqbal (1)
- jafar (1)
- joy (1)
- killing (1)
- liberation (1)
- love (1)
- magazines (2)
- media (1)
- Mobile. Phone (1)
- movies (1)
- net (1)
- news (9)
- obama (1)
- paper (1)
- pc (1)
- pdf (1)
- pechali (1)
- personal (1)
- plant (1)
- poem (2)
- politics (7)
- protection (1)
- prothom-alo (1)
- proxy (1)
- security (1)
- sex (1)
- sexual (1)
- Sexually (1)
- smoking (1)
- soft (2)
- somewherein (1)
- tech (2)
- tips (1)
- war (1)
- web (2)
- women (3)
- young (2)
এই ব্লগে..
যেকোন বিষয় নিয়ে মেইল করতে পারেন: bdidol@জিমেইল.কম
