অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড অর্ন্তবাস চোরের বংশধর। রাডের এক প্রমাতামহকে অর্ন্তবাস চুরির অভিযোগে ইংল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি চার্চ। এছাড়া তার আরেক দাদাকেও এক বস্তা চিনি চুরির দায়ে অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী রাডের পারিবারিক ইতিহাস জানতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণার পর অস্ট্রেলিয়ার মোরমন চার্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই নতুন তথ্য জানিয়েছে। এ ধরনের পারিবারিক কাসুন্দি ঘেঁটে বের করার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি ভিত্তিক মোরমন চার্চের বেশ সুখ্যাতি আছে। চার্চ তাদের গবেষণা ফলাফলে জানিয়েছে, একটি মেয়ের পোশাক ও তার অর্ন্তবাস চুরির দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাডের পঞ্চম প্রমাতামহকে ১২ বছর বয়সেই অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। চার্চের টেরি ভিনসন বলেন, পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে এ ধরনের গবেষণা আমাদের এটিই অনুধাবন করতে সাহায্য করে যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের এনে দেওয়া ঐশ্বর্যই আজ আমরা ভোগ করছি। অস্ট্রেলিয়ায় ইউরোপীয়দের বসতি স্থাপনের ইতিহাস প্রায় শোয়া দুইশ বছরের। সে সময় ব্রিটেনের জঘন্য অপরাধীদের অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হতো। এটা শুরু হয় ১৭৮৮ সালে। ১৮৬৮ সালে এসে এই নির্বাসন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার দণ্ডিতকে সেখানে পাঠানো হয়।
চার্চ জানিয়েছে, রাডের পঞ্চম প্রমাতামহ মেরি ওয়াদে ব্রিটেনে খুবই দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করতেন। তিনি রাস্তা ঝাড়ু দিতেন এবং ভিক্ষা করতেন। ১২ বছর বয়সে ১৭৮৮ সালে তিনি একটি মেয়ের পোশাক ও অর্ন্তবাস চুরি করে ধরা পড়েন। লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতের বিচারে ১৭৮৯ সালের জানুয়ারিতে ওয়াদে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। কিন্তু ৩ মাস পর আরো প্রায় ২০০ জন মহিলা অপরাধীর সঙ্গে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। এছাড়া রাডের চতুর্থ প্রপিতামহ থমাস রাডও ছিলেন চোর। এক বস্তা চিনি চুরির দায়ে সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত থমাসকে ১৮০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি আরেক চোর মেরি কাবলকে বিয়ে করেন। কাপড় চুরির দায়ে ১৮০৪ সালে কাবলকে নির্বাসন দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন